জাপান বিশ্বের অন্যতম উন্নত এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি দেশ। তবে দেশটির বয়স্ক জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি এবং জন্মহার হ্রাসের কারণে বিভিন্ন শিল্প খাতে ব্যাপক শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে জাপান সরকার বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (SSW) এবং ESDP প্রোগ্রামের মতো যুগান্তকারী ভিসা কার্যক্রম চালু করেছে। সঠিক, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জাপানে পাড়ি জমাতে আগ্রহী বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের জন্য এই প্রোগ্রামগুলো বর্তমানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
সেনা কল্যাণ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (SKOESL) সম্পর্কে
জাপানের শ্রমবাজারে সঠিক প্রক্রিয়ায় এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কর্মী প্রেরণের জন্য ‘সেনা কল্যাণ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড’ (SKOESL) একটি বিশ্বস্ত নাম। এটি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা পরিচালিত এবং সেনা কল্যাণ সংস্থা (SKS)-এর একটি কৌশলগত ব্যবসায়িক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এসকেএস (SKS)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান, যা প্রতিষ্ঠানটিকে দেশজুড়ে অভাবনীয় জনআস্থা এবং সুশাসনের প্রতীকে পরিণত করেছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত (লাইসেন্স নম্বর: আর.এল-১৪৫৩) এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সম্পৃক্ততা ছাড়াই ১০০ ভাগ আইনি প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করে।
SSW ও ESDP প্রোগ্রাম কী? SSW (Specified Skilled Worker)
SSW প্রোগ্রাম: স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার বা SSW প্রোগ্রাম হলো এমন একটি ভিসা ব্যবস্থা, যা বিদেশি নাগরিকদের জাপানের নির্দিষ্ট শ্রম-ঘাটতিপূর্ণ শিল্পগুলোতে সরাসরি কাজ করার সুযোগ দেয়। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীরা জাপানে কাজ করার সুযোগ পান এবং জাপানি নাগরিকদের সমান আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন।
ESDP প্রোগ্রাম: ESDP হলো জাপানের অভ্যন্তরে পরিচালিত একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম, যা মূলত SSW ভিসায় স্থানান্তরিত হওয়ার পূর্ববর্তী একটি ধাপ হিসেবে কাজ করে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে কর্মীরা জাপানের কাজের পরিবেশ, নির্দিষ্ট পেশার কারিগরি জ্ঞান এবং জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর প্রয়োজনীয় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণ পর্বটি সফলভাবে শেষ করার পর কর্মীরা মূল SSW কর্মী হিসেবে জাপানের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে ওঠেন।
কাজের বিবরণ ও সুবিধাসমূহ
- পদের নাম: চিকেন কাটিং এবং প্যাকেজিং (Food Processing & Packaging)।
- লিঙ্গ: শুধুমাত্র নারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
- ভিসার ধরন: ESDP ভিসা (যা পরবর্তীতে জাপানে SSW ভিসায় রূপান্তরিত হবে)।
- মাসিক বেতন: ¥১৯০,০০০ – ¥২৫০,০০০ (জাপানি ইয়েন)।
- ডিউটি: ৮ ঘণ্টা।
- সাপ্তাহিক ছুটি: ২ দিন।
- ওভারটাইম: ওভারটাইমের সুবিধা রয়েছে।
- আবাসন ও খাবার: আবাসন কোম্পানি কর্তৃক প্রদেয় এবং খাবার নিজের।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী
- বয়স ও শিক্ষা: প্রার্থীর বয়স (১৮-২৮ বছর)-এর মধ্যে হতে হবে এবং ন্যূনতম এসএসসি বা সমমান পাস হতে হবে।
- ভাষাগত দক্ষতা: জাপানি ভাষায় JFT Basic অথবা JLPT N4 লেভেলে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- স্কিল টেস্ট: এই পদের জন্য কোনো স্কিল টেস্টের (Skill Test) প্রয়োজন নেই।
- পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য: পাসপোর্টের মেয়াদ ন্যূনতম (২ বছর) থাকতে হবে এবং প্রার্থীকে চিকিৎসাগতভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে (লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষাসহ)।
জাপান যাওয়ার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
- প্রাথমিক জমা: প্রার্থীকে প্রথমে পাসপোর্ট, ছবি (জাপান ফরম্যাট), সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ভাষার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে) এবং একটি সিভি জমা দিতে হবে।
- ডকুমেন্ট প্রেরণ: SKOESL সকল ডকুমেন্ট জাপানি কোম্পানিতে পাঠাবে (১৫-২০ দিন)।
- সাক্ষাৎকার: জাপানি কোম্পানি জুম (Zoom) বা সরাসরি মাধ্যমে প্রার্থীর ইন্টারভিউ গ্রহণ করবে।
- চূড়ান্ত নির্বাচন: কোম্পানি চূড়ান্ত নির্বাচন সম্পন্ন করে SKOESL-কে অবহিত করবে (৫-৭ দিন)।
- চুক্তি স্বাক্ষর: প্রার্থী এবং জাপানি কোম্পানির মধ্যে আনুষ্ঠানিক জব কন্ট্রাক্ট সম্পন্ন হবে (১০-১৫ দিন)।
- ডকুমেন্ট পাঠানো: এরপর SKOESL প্রার্থীর সকল আনুষঙ্গিক ডকুমেন্ট ও চুক্তিপত্র জাপানে পাঠাবে (১০-১৫ দিন)।
- COE আবেদন: জাপানি কোম্পানি প্রার্থীর জন্য যোগ্যতার সনদ বা COE (Certificate of Eligibility) এর আবেদন করবে (১৫-২০ দিন)।
- COE প্রাপ্তি: জাপানি কোম্পানি COE হাতে পাওয়ার পর তা অন্যান্য সকল ডকুমেন্টসহ DHL এর মাধ্যমে SKOESL-এর কাছে পাঠাবে (৩-৪ মাস)।
- ভিসা আবেদন: SKOESL বাংলাদেশে ভিসার জন্য আবেদন করবে (১০-১৫ দিন)।
- ফ্লাইট প্রস্তুতি: এরপর SKOESL প্রার্থীর অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করবে, যেমন- মেডিকেল, BMET কার্ড, BMET ট্রেনিং এবং বিমান টিকিট নিশ্চিত করা।
আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক ঋণ সুবিধা
- মোট প্যাকেজ খরচ: সর্বমোট ৬,০০,০০০ টাকা। এর মধ্যে প্রার্থীর বিমান টিকিট, মেডিকেল ফি, BMET কার্ড ও প্রসেসিং ফি ইত্যাদি সকল খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- ব্যাংক ঋণ সুবিধা: ভিসা প্রসেসিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো COE বা যোগ্যতার সনদপত্র অর্জন। এই COE পাওয়ার পরেই প্রার্থীরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও, প্রয়োজনীয় জামানত প্রদান সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যোগাযোগ ও বিস্তারিত তথ্য
আগ্রহী প্রার্থীদের বায়োডাটা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিচে উল্লেখিত ঠিকানায় দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য বলা যাচ্ছে।
সেনা কল্যাণ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (SKOESL) (সেনা কল্যাণ সংস্থা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান)
ঠিকানা: এসকেএস টাওয়ার (লিফট-১৫, ৫ম তলা), ৭, ভিআইপি রোড, মহাখালী, ঢাকা-১২০৬। মোবাইল: +8801769056374
ইমেইল: info@skoesl.com
